সাহিত্য থেকে সিনেমা—এক মঞ্চে সুপ্ত প্রতিভার মেলা: নজর কাড়ল ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টারের আয়োজন

20th December 2025 1:15 am বিনোদন
সাহিত্য থেকে সিনেমা—এক মঞ্চে সুপ্ত প্রতিভার মেলা: নজর কাড়ল ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টারের আয়োজন


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সৃজনশীলতা আর প্রতিভার জয়গানে মুখরিত হলো কলকাতার লীলা ভবন। ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার বিকেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হলো ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার পরিচালিত বেঙ্গলি শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও সাহিত্য সম্মাননা। প্রান্তিক অঞ্চলের শিল্পীদের মূলধারার মঞ্চে তুলে ধরার যে অঙ্গীকার নিয়ে এই সংস্থার পথচলা, এই অনুষ্ঠান যেন ছিল তারই এক সার্থক প্রতিফলন।
উপস্থিত নক্ষত্ররা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বাদল সরকার (প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার), বিশিষ্ট অভিনেতা ও লেখক বাদল বর্মন, প্রখ্যাত জুরিজাজ বাবু রায় এবং আনন্দ চক্রবর্তী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক ও শিল্পী ইন্দ্রনীল মুখার্জি, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও গায়িকা সমৃদ্ধা চক্রবর্তী, বিশিষ্ট আইনজীবী অনিল কুমার দাস, এবং সাহিত্যিক ও বাচিক শিল্পী দীপঙ্কর মজুমদার। মঞ্চ আলো করে উপস্থিত ছিলেন জয়ন্ত মন্ডল, সমীর ব্যানার্জি, রাজকুমার সেন এবং নৃত্যগুরু স্বস্তিক-সহ আরও অনেক গুণী ব্যক্তিত্ব।

শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল: সেরার লড়াই
এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে নিচের চলচ্চিত্রগুলি:

  • প্রথম স্থান: ‘উল্টো রাজার দেশ’ (পরিচালক: ঋষভ দত্ত)

  • দ্বিতীয় স্থান: ‘অনর্থ’ (পরিচালক: ত্রিবিক্রম বেরা অন্তিম)

  • তৃতীয় স্থান: ‘ভ্যানিশ’ (পরিচালক: মৃত্যুঞ্জয় রায়)
    বিশেষ বিভাগীয় পুরস্কার:
    উৎসবের মঞ্চে একক কৃতিত্বের জন্য সম্মানিত করা হয় বেশ কয়েকজন শিল্পী ও কলাকুশলীকে। উল্লেখযোগ্য বিজয়ীরা হলেন:

  • সেরা অভিনেতা ও পরিচালক: উত্তম বসাক ও ত্রিবিক্রম বেরা অন্তিম (‘অনর্থ’ ছবির জন্য)।

  • সেরা অভিনেত্রী: ভারতী পাল (‘শান্তিপুরের ডাইনি’)।

  • সেরা স্টোরি ও স্ক্রিপ্ট: ঋষভ দত্ত ও মৃত্যুঞ্জয় রায়।

  • সেরা শিশু শিল্পী: সৌম্যরূপ (‘ইচ্ছেপূরণ’)।

 

সাহিত্য সম্মাননা ও সমাজসেবা
কেবল চলচ্চিত্র নয়, সাহিত্যের আঙিনাতেও এদিন সম্মাননা প্রদান করা হয়। সেরা লেখকের শিরোপা পান অসীম ভুঁইয়া, সেরা সম্পাদকের সম্মান পান রুহুল আমিন। এছাড়া সেরা পত্রিকা হিসেবে ‘দুষ্টু পত্রিকা’ (সঞ্চিতা সিকদার) এবং সেরা সাহিত্য সংগঠন হিসেবে সমীর মুখার্জিকে পুরস্কৃত করা হয়। কবিতা প্রতিযোগিতায় “স্বপ্ন ও সংগ্রাম” বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন পম্পা ঘোষ।

 

উদ্যোক্তার বক্তব্য

ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার-এর নেপথ্য কারিগর ও প্রতিষ্ঠাতা সৌমেন সেন তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের মূল দর্শন তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, “আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো গ্রামবাংলার প্রান্তিক ও অবহেলিত জনপদে ছড়িয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাদের বিশ্বমঞ্চের আলোয় নিয়ে আসা এবং তাদের সৃজনশীল সত্তাকে একটি সুনির্দিষ্ট ও পেশাদার দিশা প্রদান করা।” উল্লেখ্য যে, তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক নবনক্ষত্র’ সাহিত্য পত্রিকাটিও বর্তমানে নবীন ও প্রবীণ সাহিত্যিকদের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক জগতে এক উজ্জ্বল মাইলফলক।

 

নান্দনিক সমাপ্তি

অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে মঞ্চস্থ হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাচিক শিল্পীদের উদাত্ত কণ্ঠের কবিতা পাঠ এবং গুণী সংগীতশিল্পীদের সুরের মূর্ছনা উপস্থিত দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। সমবেত দর্শক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কলকাতার বুকে আয়োজিত এই বেঙ্গলি শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও সাহিত্য সম্মাননা আগামী দিনে বাংলা চলচ্চিত্র এবং সাহিত্যের মানচিত্রকে কেবল সমৃদ্ধই করবে না, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার এক নতুন উৎস হয়ে উঠবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আগামী বছরগুলোতে এই উৎসব আরও বৃহৎ ও আন্তর্জাতিক আঙ্গিকে আত্মপ্রকাশ করবে।





Others News

বই-সংস্কৃতির সপক্ষে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: মৌলালি রাজ্য যুব কেন্দ্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল নিউ স্টার’-এর জমকালো পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক উৎসব

বই-সংস্কৃতির সপক্ষে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: মৌলালি রাজ্য যুব কেন্দ্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল নিউ স্টার’-এর জমকালো পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক উৎসব


সংস্কৃতি-বিমুখ তরুণ সমাজকে বই ও শিল্পের মূল স্রোতে ফেরাতে এক অনন্য এবং সফল উদ্যোগ নিল কলকাতার প্রথম সারির সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল নিউ স্টার’ (International NewStar)। সম্প্রতি, এই সংস্থার পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য যুব কেন্দ্র (State Youth Centre) মৌলালি যুবক কেন্দ্রে আয়োজিত হলো এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, যা রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণীজনদের উপস্থিতিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এই মঞ্চ থেকে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, প্রশাসন সহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের কর্মকুশলতা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা শতাধিক ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও সম্পাদক, মাননীয় সৌমেন সেনের অক্লান্ত ও ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এর ফলে, সমাজে ইতিবাচক কাজের স্বীকৃতি প্রদানে ইন্টারন্যাশনাল নিউ স্টার তার দায়বদ্ধতা পুনর্বার প্রমাণ করল।
অনুষ্ঠানের গরিমা বৃদ্ধি করেন টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্দেশক বাদল সরকার, পরিচালক ও সম্পাদক সৌমেন সেন, অমরনাথ সেন, অদিতি মুখার্জীর মতো বহু উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। সম্মানিত অতিথি ও গুণীজনদের তালিকায় আরও ছিলেন প্রাক্তন বিগ্রেডিয়ার তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়, হিউম্যান রাইটস-এর জেনারেল সেক্রেটারি শ্রী সুমন দাস, অল ইন্ডিয়া হিউম্যান রাইটস সেক্রেটারি বিপ্লব ঘোষ, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও পুলিশ আধিকারিক বাদল বর্মন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক বরুণ চক্রবর্তী, নজরুল গবেষক দিপা দাস, কবি সুব্রত চ্যাটার্জি, লেখিকা আরতি ঘোষ ও আমি কল্যাণী, রবীন্দ্রভারতী টপার সুমন মুখার্জি, বিশিষ্ট সমাজ সেবক দীপঙ্কর পোড়েল এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত সমাজ সংগঠক অনির্বাণ সামন্ত সহ আরও অনেকে। মঞ্চে এই সমস্ত বিশিষ্টজনদের হাতে তাঁদের প্রাপ্য সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্য প্রসঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল নিউ স্টার-এর সম্পাদক সৌমেন সেন জোর দিয়ে জানান, "বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের একাংশ বই এবং সংস্কৃতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সংস্কৃতি বিমুখ এই তরুণ সমাজকে পুনরায় বই ও সংস্কৃতিমুখী করে তোলার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন।" তরুণ প্রজন্মের জন্য বাংলা সংস্কৃতিকে উন্নত ও প্রসারিত করার লক্ষ্যে সৌমেন সেনের এই নিরলস প্রচেষ্টা সমাজের সকল স্তরের মানুষের ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেছে। এই জমকালো মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আন্তর্জাতিক নব নক্ষত্র সাহিত্য পত্রিকা’-এর প্রকাশনাও সম্পন্ন হয়। সমাজসেবা এবং সংস্কৃতির এই যুগলবন্দী আগামী প্রজন্মের কাছে এক নতুন বার্তা দেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।