মহারণের রণক্ষেত্রে তরুণ সমাজ: আধুনিক রাজনীতি ও সমাজ গঠনে নতুন দিশার সন্ধানে ‘International Newstar’

21st March 2026 1:05 am জেলা
মহারণের রণক্ষেত্রে তরুণ সমাজ: আধুনিক রাজনীতি ও সমাজ গঠনে নতুন দিশার সন্ধানে ‘International Newstar’


কলকাতা | ২০ মার্চ, ২০২৬ বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে আধুনিক সমাজ ও রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের প্রকৃত অবস্থান এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডার আয়োজন করল আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ‘International Newstar’। গত ২০ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক এবং ইউটিউব লাইভের মাধ্যমে সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

তরুণ প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ ও আগামীর পথচলা

‘মহারণের রণক্ষেত্রে তরুণ সমাজ’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে আলোচকরা সমসাময়িক রাজনীতির জটিলতা এবং সামাজিক অস্থিরতার মাঝে তরুণদের লড়াই নিয়ে দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিশদ বিশ্লেষণ করেন। বর্তমান প্রজন্মের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে কীভাবে একটি সমৃদ্ধ সমাজ গড়া সম্ভব, সেই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন বিশিষ্টজনেরা।


আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নক্ষত্ররা তাঁদের মূল্যবান মতামত পেশ করেন:

  • শ্রী জগৎপতি সরকার: এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য ও বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক। তিনি ইতিহাসের নিরিখে তরুণদের নৈতিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন।

  • দেবরাজ সাহা: লেখক ও সম্পাদকীয় বিশ্লেষক হিসেবে তিনি তরুণ মনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন ব্যাখ্যা করেন।

  • বাদল বর্মন: রাজ্য স্তরের হকি খেলোয়াড়, কবি ও সংগঠক। ‘International Newstar’-এর সহ-সভাপতি এবং ‘প্রগতির কলম’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি তরুণদের ক্রীড়া ও সাংগঠনিক দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

  • সাম্যব্রত ভৌমিক: ইস্ট ওয়েস্ট এডুকেশন ইনস্টিটিউটের ছাত্র হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের চাওয়া-পাওয়া ও বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

  • সৌমেন সেন ও সুব্রত চ্যাটার্জী: আন্তর্জাতিক নবনক্ষত্র পত্রিকার সম্পাদক এবং International Newstar-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি যথাক্রমে সংবাদমাধ্যম ও সমাজের সেতুবন্ধনে তরুণদের ভূমিকার কথা বলেন।

  • কল্যাণী: সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা (International Newstar) হিসেবে তরুণদের সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।


সঞ্চালনায় দুই বাচিক শিল্পী

সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে অত্যন্ত সুচারু ও পেশাদারিত্বের সাথে এগিয়ে নিয়ে যান দুই বিশিষ্ট সঞ্চালিকা:

  1. পিয়ালী ভট্টাচার্য: বিশিষ্ট সঞ্চালিকা ও বাচিক শিল্পী।

  2. দিব্যমা রায়: কবি, সাহিত্যিক, বাচিক শিল্পী ও শিক্ষিকা।

তাঁদের প্রাঞ্জল উপস্থাপনা এবং আকর্ষণীয় সঞ্চালনা অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাফল্য

ইউটিউব এবং ফেসবুক লাইভে সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি হাজার হাজার দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। প্রায় এক ঘণ্টার এই আলোচনাটি কেবল একটি আড্ডা নয়, বরং বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গাইডলাইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





Others News

কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন: দুই বাংলার মিলনমেলায় সম্মানিত কবি অম্বরীশ ব্যানার্জী

কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন: দুই বাংলার মিলনমেলায় সম্মানিত কবি অম্বরীশ ব্যানার্জী


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: ১৯৫২ সালের অমর ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার অঙ্গীকার নিয়ে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ারে উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। গত ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, শনিবার কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন ঐতিহাসিক বেঙ্গল থিওসফিক্যাল সোসাইটি হলে এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এশিয়ান কালচারাল একাডেমি তথা আশা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি আক্ষরিক অর্থেই দুই বাংলার কবি, সাহিত্যিক ও গুণীজনদের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। উদ্বোধনী বক্তব্যে ডঃ ঘোষ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘আন্তর্জাতিক আমার ভারত’ পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সম্মিলিতভাবে এই পত্রিকার নতুন সংখ্যাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। পত্রিকাটির সম্পাদক শেখ সাকিল আহমেদ জানান, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসারে এই পত্রিকা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ ও গৌরবময় মুহূর্ত ছিল প্রখ্যাত কবি ও সমাজকর্মী অম্বরীশ ব্যানার্জীর হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া। বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় দীর্ঘদিনের কাব্যচর্চা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁকে উত্তরীয় ও মানপত্র দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। যদিও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে পশ্চিম বর্ধমান জেলার লাইব্রেরিয়ান বিশ্বজিৎ বাউরি মহাশয় মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে পরবর্তীতে তিনি কবি অম্বরীশ ব্যানার্জীর হাতে বিশেষ সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। গুণী এই কবির দীর্ঘায়ু ও সাহিত্যচর্চার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বাঙালি বিশ্বকোষের প্রধান সম্পাদক আব্দুল করিম বলেন, “ইউনেস্কো বাংলা ভাষাকে বিশ্বের সকল ভাষার মা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ৭০০০-এর বেশি ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষার এই গৌরবোজ্জ্বল স্থান আমাদের অহংকার। ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ কেবল আমাদের নয়, সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।”
আশা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সোহেল আখতার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মাতৃভাষা আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। আমরা চাই এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণ সাহিত্যিকদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করতে।”
অনুষ্ঠানে দুই বাংলার বিশিষ্ট নক্ষত্রদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত ছিলেন বরুণ চক্রবর্তী, কবি ড. অনরুদ্ধ পাল, প্রবীণ কবি সত্যব্রত চৌধুরী, কবি ড. আকসার আলী, শান্তিপুর কলেজের অধ্যক্ষ ড. চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কবি ও শিক্ষক কালিচরণ সর্দার, কবি অরূপ সরকার, কবি সুযস কান্তি ঘোষ এবং পুরুলিয়া ডরমুট লাইব্রেরীর লাইব্রেরিয়ান বলাই মন্ডল। এছাড়াও নারী শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব জননী বাংলা ভাষা পত্রিকার সম্পাদিকা সৈয়েদা বেগম এবং শিক্ষিকা সরস্বতী অধিকারী।

বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সাবরিনা ইসলাম নীড়, মোঃ নজিবুর রহমান এবং রাফিয়া সুলতানা। এছাড়াও ডক্টর আকবর আলী, সমাজকর্মী এস এম শামসুল হক, ঝাড়খণ্ডের মথুরাপুর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ আব্দুল রইস খান এবং কবি জয়দেব রায় চৌধুরীসহ শতাধিক কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ অনুষ্ঠানটি চলে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। আমন্ত্রিত কবি ও সাহিত্যিকদের স্বরচিত কবিতা পাঠ, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে পুরো প্রেক্ষাপট এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। পরিশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং কবি অম্বরীশ ব্যানার্জীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।