মধ্য হাওড়ায় শিল্প সৃজন পরিষদের বর্ণাঢ্য বই প্রকাশ ও সাহিত্য সভা সম্পন্ন

7th June 2026 12:15 pm জেলা
মধ্য হাওড়ায় শিল্প সৃজন পরিষদের বর্ণাঢ্য বই প্রকাশ ও সাহিত্য সভা সম্পন্ন


সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অবিস্মরণীয় মিলনক্ষেত্রে পরিণত হলো মধ্য হাওড়ার একটি প্রেক্ষাগৃহ। সম্প্রতি ড. সোহিনী চক্রবর্তীর ঐকান্তিক উদ্যোগে ও শিল্প সৃজন পরিষদ ও প্রকাশনীর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য বই প্রকাশ অনুষ্ঠান। সাহিত্যচর্চা, সম্মাননা এবং নতুন গ্রন্থের উন্মোচন—এই তিনে মিলে অনুষ্ঠানটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুই বিশিষ্ট সাহিত্যিক ড. সমুদ্র বসু ও আরণ্যক বসু। বাংলা সাহিত্যে তাঁদের সুদীর্ঘ অবদান ও সৃজনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিল্প সৃজন পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁদের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ “বঙ্গ দিগন্ত সম্মান”-এ ভূষিত করা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নতুন বইয়ের প্রকাশ। প্রকাশনীর পক্ষ থেকে মোট ১২টি একক গ্রন্থ পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংকলনগুলোর মধ্যে মিন্দ্রনীল চক্রবর্তীর সম্পাদনায় প্রকাশিত “গোধূলি বেলায় হাতেখড়ি” এবং রাজ চিনার-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত “কলমের শুভারম্ভ” বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। এছাড়াও ড. সোহিনী চক্রবর্তীর নিজস্ব সম্পাদনায় প্রকাশিত “রবীন্দ্র সংকলন : তবু মনে রেখো” এবং “দিগন্ত ডায়েরি” গ্রন্থ দুটি উপস্থিত পাঠকমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

প্রতিভার স্বীকৃতি প্রদানে আয়োজক সংস্থা কার্পণ্য করেনি। সাহিত্যের মূল স্রোতে নতুন ও অভিজ্ঞদের মেলবন্ধন ঘটাতে এ বছর “বঙ্গীয় স্রষ্টা রত্ন সম্মান” প্রদান করা হয় ড. দেবদূত মুখোপাধ্যায়, ড. অমিতাভ ঘোষ, অঙ্কিতা মৈত্র ও শান্তনু পণ্ডিত-কে। পাশাপাশি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য মৈত্রেয়ী হালদার, দেবাঞ্জন রায়, সুমন নট্ট, সায়ন মিশ্র ও তৃণা মুখোপাধ্যায়কে সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ড. সোহিনী চক্রবর্তী বলেন, “লেখকদের সৃষ্টির মর্যাদা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। শিল্প সৃজন পরিষদ বরাবরই নতুন লেখকদের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে বদ্ধপরিকর।” সাহিত্যের গভীর চর্চা এবং নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মুখরিত এই অনুষ্ঠানটি হাওড়ার সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।





Others News

মহারণের রণক্ষেত্রে তরুণ সমাজ: আধুনিক রাজনীতি ও সমাজ গঠনে নতুন দিশার সন্ধানে ‘International Newstar’

মহারণের রণক্ষেত্রে তরুণ সমাজ: আধুনিক রাজনীতি ও সমাজ গঠনে নতুন দিশার সন্ধানে ‘International Newstar’


কলকাতা | ২০ মার্চ, ২০২৬ বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে আধুনিক সমাজ ও রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের প্রকৃত অবস্থান এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডার আয়োজন করল আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ‘International Newstar’। গত ২০ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক এবং ইউটিউব লাইভের মাধ্যমে সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

তরুণ প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ ও আগামীর পথচলা

‘মহারণের রণক্ষেত্রে তরুণ সমাজ’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে আলোচকরা সমসাময়িক রাজনীতির জটিলতা এবং সামাজিক অস্থিরতার মাঝে তরুণদের লড়াই নিয়ে দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিশদ বিশ্লেষণ করেন। বর্তমান প্রজন্মের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে কীভাবে একটি সমৃদ্ধ সমাজ গড়া সম্ভব, সেই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন বিশিষ্টজনেরা।


আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নক্ষত্ররা তাঁদের মূল্যবান মতামত পেশ করেন:

  • শ্রী জগৎপতি সরকার: এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য ও বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক। তিনি ইতিহাসের নিরিখে তরুণদের নৈতিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন।

  • দেবরাজ সাহা: লেখক ও সম্পাদকীয় বিশ্লেষক হিসেবে তিনি তরুণ মনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন ব্যাখ্যা করেন।

  • বাদল বর্মন: রাজ্য স্তরের হকি খেলোয়াড়, কবি ও সংগঠক। ‘International Newstar’-এর সহ-সভাপতি এবং ‘প্রগতির কলম’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি তরুণদের ক্রীড়া ও সাংগঠনিক দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

  • সাম্যব্রত ভৌমিক: ইস্ট ওয়েস্ট এডুকেশন ইনস্টিটিউটের ছাত্র হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের চাওয়া-পাওয়া ও বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

  • সৌমেন সেন ও সুব্রত চ্যাটার্জী: আন্তর্জাতিক নবনক্ষত্র পত্রিকার সম্পাদক এবং International Newstar-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি যথাক্রমে সংবাদমাধ্যম ও সমাজের সেতুবন্ধনে তরুণদের ভূমিকার কথা বলেন।

  • কল্যাণী: সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা (International Newstar) হিসেবে তরুণদের সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।


সঞ্চালনায় দুই বাচিক শিল্পী

সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে অত্যন্ত সুচারু ও পেশাদারিত্বের সাথে এগিয়ে নিয়ে যান দুই বিশিষ্ট সঞ্চালিকা:

  1. পিয়ালী ভট্টাচার্য: বিশিষ্ট সঞ্চালিকা ও বাচিক শিল্পী।

  2. দিব্যমা রায়: কবি, সাহিত্যিক, বাচিক শিল্পী ও শিক্ষিকা।

তাঁদের প্রাঞ্জল উপস্থাপনা এবং আকর্ষণীয় সঞ্চালনা অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাফল্য

ইউটিউব এবং ফেসবুক লাইভে সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি হাজার হাজার দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। প্রায় এক ঘণ্টার এই আলোচনাটি কেবল একটি আড্ডা নয়, বরং বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গাইডলাইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।